গোধূলি আলো'র গল্পগুচ্ছ - অধ্যায় ২
বিপুল আর আমার সাথে কথা বলছিল না। এমনকি ঠিকমতো খাওয়া দাওয়া, পড়াশোনাও করতো না। সব সময় মনমরা হয়ে থাকতো। কারণ জিজ্ঞেস করলে এড়িয়ে যেতো। আমিও আর বেশি ঘাটালাম না বিষয়টি নিয়ে। কিন্তু আমার ইন্টারে জিপিএ 5 পাওয়া ছেলে যখন বিবিএ ফার্স্ট সেমিস্টারে তিনটি বিষয়ে ফেইল করলো তখন বিষয়টি আমি সিরিয়াসলি নিলাম। ওকে একদিন নিভৃতে আমার ঘরে ডেকে এনে আন্তরিক ভাবে বললাম, কি সমস্যা তোর? আমাকে ঠিকমতো খুলে বল্। আমি তোর মা। আমার কাছে কোনো সংকোচ নেই। সে কিছুক্ষণ নীরব থেকে মুখ নিচু করে বলল, বিষয়টা তো তোমার বোঝা উচিত। আমি - সত্যি আমি কিছু বুঝতে পারছি না। আমাকে বল্ সোনা, কি সমস্যা তোর? বিপুল - তুমি এখন বিভানকে দরজা লক করে খাওয়াও কেন? আমি যেনো আকাশ থেকে পড়লাম! একি কথা ছেলের! এমন কথা শুনবার জন্যই কি তাকে পেটে ধরেছিলাম! মরে যেতে ইচ্ছে করছিল! নিজেকে সামলে নিয়ে কিছুক্ষণ পর বললাম, চলে যা এখান থেকে। এক্ষুনি চলে যা। সে রোবটের মতো নিঃশব্দে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলো। আমার চোখে পানি চলে এলো কষ্টে। এতো দিনের এতো স্নেহ মমতার এই প্রতিদান দিলো আমার ছেলে? সে আমার শরীরের দিকে কামুক দৃষ্টিতে তাকায়! এমনকি আমার দেহ দেখতে না পেলে বিষণ্নতায় ভোগে! হে আল্লাহ! কেন এমন পরীক্ষার ভেতর ফেললে আমাকে? আমি কি এমন পাপ করেছিলাম?
এরপর থেকে আমিও বিপুলকে এড়িয়ে চলতে লাগলাম। গোল্লায় যাক ছেলে, তাতে যেনো আমার আর কিছুই যায় আসে না। এরপরে দেখলাম সে নিজেই এগিয়ে এলো আমার দিকে? ভগ্নস্বরে বলল, মা কেন আমার সাথে আর কথা বলো না তুমি? আমি - কথা বলার মুখ কি আর আছে আমার? তোমাকে ঠিকমতো মানুষ করতে পারি নি। সেটা আমারই ব্যর্থতা। বিপুল - আমি তোমার সব কথা শুনবো মা যদি তুমি আর দরজা লক করে না দাও। এর বেশি আমার আর কিছুই চাওয়ার নেই। আমি উত্তেজিত হয়ে বললাম, যাও আমার সামনে থেকে। তোমার মুখটা আমি আর দেখতে চাই না। সে নীরবে চলে গেল। সেদিন রাতে আর বাড়ি ফিরলো না। এমনটি আগে কখনো হয় নি। চিন্তায় আমি অস্হির হয়ে গেলাম। পরিচিত বন্ধু বান্ধব যারা ছিল সবার সাথে যোগাযোগ করলাম। কোথাও যায় নি সে।