গোধূলি আলো'র গল্পগুচ্ছ - অধ্যায় ৯৩
বাবার উত্তেজনা দেখে বোন মরিয়া হয়ে বললো, বাবা মাথা গরম কোরো না। শাস্তি দিলেই কী যা ঘটে গেছে তা সব মুছে যাবে? তার চেয়ে বরং এমন কিছু করতে হবে যাতে এসবের পুনরাবৃত্তি আর না ঘটে আর বাইরে এসব প্রকাশ না পায়।
বাবা কিছু সময় চিন্তা করে বললেন, তাহলে তুমি কী করতে বলো?
বোন বললো, তোমার ছোট ছেলেকে বাইরে কোনো মেসে বা হোস্টেলে থাকবার ব্যবস্থা করে দাও। এ বাড়িতে তার আর কোনো ভাবেই থাকা চলে না।
বাবা রাগত স্বরে বললেন, আমি ব্যবস্থা করে দেবো মানে? সেয়ানা ছেলে! বাচ্চা পর্যন্ত পয়দা করে ফেলেছে। নিজের ব্যবস্থা নিজেই করে নেবে। কিন্তু তার বাচ্চার দায়িত্বই বা আমি নিতে যাবো কেনো? বাচ্চাটাকে কোনো এতিমখানায় দিয়ে দেবো।
বোন মরিয়া হয়ে বললো, না বাবা। এভাবে ঘরের ছেলেকে এতিমখানায় দিলে সমাজে কথা উঠবে। তখন আসল সত্যটা বেরিয়ে যেতে পারে।
বাবা বললেন, তাই বলে ঐ ছেলেকে আমি ঘরে পুষতে পারবো না। শুধু ওকে কেনো? ওর মাকেও আমি আর রাখতে চাই না।
বোন এবার চুপ করে রইলো। আর কেউ কোনো কথা বললো না। তখন এতো সময় পরে মা ধীরে ধীরে বলে চললেন, তোমরা সবাই তো আমাদের নিয়ে বিচার বসিয়েছে! যে যার মতো রায় দিচ্ছ। কিন্তু আমাদেরও তো কিছু বলার থাকতে পারে।
বাবা ক্ষিপ্ত স্বরে বললেন, যা কুকীর্তি ঘটিয়েছ তাতে তোমাদের আর কী বলার থাকবে?
মা কিছু সময় চুপ থেকে মাথা নিচু করে বললেন, মজলিস ডেকে আমাদের যেভাবে অপমান করা হলো এরপর আমাদের তিনজনার কেউই আর এখানে থাকবো না। দরকার হলে আমি পরের বাড়িতে দাসীবৃত্তি করে সংসার চালাবো। তবু এখানে নয়।
এরপর কিছুক্ষণ থেমে মা আমার দিকে ইঙ্গিত করে বললেন, তৈরি হয়ে নাও। এক্ষুনি আমরা এই বাড়ি ছেড়ে যাবো।
আমি দিশেহারা হয়ে বললাম, কী বলছ মা? এই রাতের বেলা কোথায় যাবো আমরা?
মা নির্লিপ্ত স্বরে বললেন, যা বলছি তাই করো। এখানে আর মন টিকছে না আমার। একটা রাতও আর কাটাতে চাই না এখানে। বাবু ঘুমাচ্ছে। ওকেও তুলে দাও।
অগত্যা আমি মাথা নেড়ে সায় জানালাম।
সবার মুখে একটা দুঃখের ছায়া নেমে এলেও বাবা আরো ক্ষিপ্ত হয়ে বললেন, গেলে এক কাপড়ে নেমে যাও। তৈরি হবার, জিনিসপত্র সাথে নেবার কিছু নেই এখানে।
মা প্রচন্ড আহত হলেন। কিন্তু সে ভাব দমন করে দৃঢ় কন্ঠে বললেন, ঠিক আছে।