মা এবং বোন - অধ্যায় ১৪
মা- বাহার করেছ পাঠা একটা, আবার বলে একটু লজ্জাও নেই। আমার মেয়েটার সর্বনাশ করেছ, বাড়ি ফিরলে দেখেই বুঝেছি মেয়েটার সাথে কিছু হয়েছে চোখ মুখের দিকে তাকানো যাচ্ছিল না। তুমি কাঁদিয়েছ মেয়েটাকে। টের পাবে বাবা আসুক শুনলে বুঝবে কেমন লাগে। সবচাইতে বেশী ভালবাসে মেয়েকে। কি যে বলব তোমাদের দুজনকে ভেবেই পাচ্ছিনা আমি।
আমি- ঝরের জোরে ঝাপ্টা এসে গায়ে পরতেই যেই জল লাগল অমনি আমার মায়ের লাঠির ঘায়ে কাঁটা জায়গায় জল লাগতেই উরি বাবা করে উঠলাম, জল লাগতেই কামড় দিল। হাত দিয়ে চেপে ধরে রইলাম।
মা- কি হল আবার তোমার নাটোক করছ তাইনা।
আমি- না কাঁটা জায়গায় জল লাগল তাই জ্বলছে ওই জায়গায়। এই বলে গামছা দিয়ে চেপে ধরলাম আর বললাম হলুদ ধুয়ে চলে গেছে বলে অন্যদিকে তাকিয়ে রইলাম।
মা- বল্ল এদিকে এসে বসতে বললাম সে তো আসলে না জল লাগলে আমি কি করব।
আমি- নিরুত্তর রইলাম। চেপে ধরে কাঁদতে লাগলাম।
মা- আমার কাছে এসে দেখি কি অবস্থা বলে হাত এবং পা দেখল, ফুলে আছে হাত বুলিয়ে দিয়ে বলল যে অপরাধ করেছে সে হিসেবে অনেক কম সাজা হয়েছে। আমার একটাই ভয় হয়, মেয়েটার না কিছু হয়ে যায়, কি করেছ কে যানে সত্যি বলছ না মিথ্যে বলছ। কিরে রে সত্যি তো বাইরে ফেলেছিস।
আমি- হ্যা বাঃ না কিছুই বললাম না চুপ করেই আছি।
মা- আমার মাথায় একটা ঠোন্না মেরে এই কি হল বলছিস না কেন।
আমি- কয়বার বলল আগেই তো বললাম বাইরে ফেলেছি। ভেতরে একটুও যায়নি।
মা- যাক তবুও আমার চিন্তা হয়, তা কোথায় বসে এসব করেছে ঘরে না কোথায়।
আমি- না পার্কে গিয়েছিলাম সেখানে বসে।
মা- কি খোলা পার্কে।
আমি- না ওখানে ঝুপড়ি আছে তার ভেতরে বসে। বাইরে থেকে কিছুই দেখা যায়না, ওইরকম অনেক ঘর আছে আর প্রতি ঘরেই জোড়া জোড়া ঢুকেছিল।
মা- তাই বলে বোনকে নিয়ে ঢুকতে হবে তোমার তাইনা নর পশু একটা।
আমি- হ্যা আমার দোষ ওকে আমি বলে কয়ে নিয়ে গেছিলাম, ওর কোন দোষ নেই।
মা- দেখ আমি তোদের মা সব বুঝি ওর ইচ্ছে না থাকলে তুই এসব কোনদিন করতে পারতি না আমাকে বোঝাতে হবেনা। কোন অপ্যা কালে আজকে বেড়িয়েছি এমন ঝর বৃষ্টি তারমধ্যে এইসব আমাকে শুনতে হচ্চে। একটাকে পেতালে হবেনা দুটোকে গাছে বেঁধে পেটাতে হবে। তুই একা অপরাধী না। আমি সব বুঝি।
আমি- না যত মারা লাগে আমাকে মারো ওকে কিছু বল্বেনা, ওর কিছু করবে না তোমরা আগেই বলে দিলাম।
মা- ইস কত প্রেম বোনের প্রতি, তা কি তোমাদের ভাইবোনের পালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছে নাকি। কথা শুনে তো তাই মনে হয়।
আমি- চুপ করে রইলাম মনে মনে বললাম কি বলব তোমার মেয়ের তো তাই ইসচ্ছে। আর আগে পরে কিছু না হলেও ওর থেকেয়ামাকে কেউ বেশী ভালো বাসবে না।
মা- কি হল বলছিস না কেন মনে মনে কি ভাবছিস। বাড়ি থাকলে তো ভাইবোনে কোন ফন্দি এটে ঠিক একজায়গায় হতে তাইনা। সকালে কিছু করিস নিতো।
আমি- না তুমি তো আগে গেছিলে বার বার কেন এক কথা জিজ্ঞেস করছ।
মা- কেন বলছি একবার ভাব এইসব সমাজে কোনদিন সম্ভব, কেন বুঝিস না বাবা। ও তোর আপন বোন, আমার গর্ভে তোরা দুইজন জন্মেছিস।
আমি- বললাম তোমাকে কতবার বলব একটা ভুল হয়ে গেছে আর হবেনা এখন থামতে তো পারো।
মা- আমি থাম্লেই কি তোমরা থামবে, আমার তো ভয় ওই এক জায়গায়, তোমাদের যে আর থামানো যাবেনা। ঠিক ফাঁকা আর সুযোগ পেলেই তোমরা আবার ওই এককাজ করবে।
আমি- না আমি বললাম তো আর হবেনা দেখে নিও।
মা- কি দেখে নেব আমি, তোমরা কি আমাকে জানিয়ে করবে, তবে আগে জিজ্ঞেস করতে, সে কি করেছ। যদি বাচ্চা এসে যায় কি হবে, এই একটা ভয় আমাকে কুরে কুরে খাচ্ছে। কি করে পারলে তোমরা একটু লজ্জা ভয় কিছুই হলনা তোমাদের। বাড়ি ফিরলে পরে দেখেই আমি ভেবেছিলাম মেয়ের সাথে কিছু হয়েছে, তবে এই যে হয়েছে তা কি ঘুণাক্ষরেও টের পেয়েছি মোবাইল হাতে না এলে তো কিছু জানতে পারতাম না। মেয়েটার চোখ দেখেই বুঝছি অনেক কষ্ট পেয়েছে। চোখ ফোলা দেখেই বুঝছি কেদেছিল মেয়েটা জোর করে করেছ তাইনা।
আমি- একদম না দুজনার সম্মতি ছিল বলেই হয়েছে। সিনেমা হল থেকে শুরু হয়েছে আর পার্কে গিয়ে বাকিটা।
মা- ওর ছিরে ফেটে যায়নি তো, কেমন করে হাঁটছিল তো।
আমি- মনে ভাবলাম মায়ের এত কোউতুহল কেন। তাই রাখ ঢাক না করেই বললাম না সেরকম কিছু হয়নি তবে খুব ব্যাথা পেয়েছে আমাকে বলেছে।
মা- তাই বল, দেখেই আমি বুঝেছি এমন কিছু হয়েছে। ভেবেছিলাম মারামারি করেছ।
আমি- না তেমন কিছু না উত্তেজনায় সব হয়ে গেছে, দুজনেই পাগল হয়ে গেছিলাম আর তার পরিনতি হয়েছে এটা হলে এম্নভাবে চলছিল দেখেই আমরা উত্তেজিত হয়ে গেছিলাম।
মা- হ্যা তারপর জায়গা খুজছিলে তাইনা এবং পার্কে গিয়ে ঠিক জায়গা পেয়ে গেলে আর বোনকে নিয়ে ভেতরে গেলে, ছি ছি কি সুন্দর বলছে আবার।
আমি- কি করব তুমি তো বার বার জানতে চাইছ।
মা- তা নিজের বোন বাদ দিয়ে অন্য কারো সাথে প্রেম করতে পারতে নিজের বোনকেই লাগল। এ সব মহাপাপ কি করে করলে এসব সমাজে হয়। না কি মোবাইলে পেয়ে গেছ।
আমি- দেখ কি বলব আজকাল এসব অনেক হয় মোবাইল খুল্লেই দেখা যায়, ভাইবোন আরো কত কিছুর মধ্যে হয়, আমার থেকে মাম্পী বেশী যানে আমাকে বলেছে।
মা- এবার আসল কথা বল, তোমার মাথা ও খেয়েছে তাইনা, ওকে বড় মোবাইল দেওয়াই ভুল হয়েছে, তা আর কি কি হয় কি জানো তোমরা।