মা এবং বোন - অধ্যায় ১৬
আমি- মায়ের এই কথা শুনে নিশ্চুপ হয়ে গেলাম কিছু বললাম না, বলার আর কথা নেই এমন অপবাদ মা দিচ্ছে। একদম চুপ্টি করে বসে রইলাম। মাও আর কোন কথা বলছেনা দুজনেই একদম বোবা হয়ে গেলাম। ঝোরো হাওয়ায় বোট নরে চড়ে উঠল, মনে হয় নোঙ্গর উঠে গেছে তাই ভেবে আমি দৌড়ে বাইরে গেলাম। গিয়ে দেখি সত্যি বোট সরে যাচ্ছে। তাই আবার নোঙ্গর তুলে পাশেই ছিল বড় গাছ তাতে ছুরে মারলাম আর আটকে গেল। হাওয়া আসছে খুব জোরে কিন্তু বোট ঘুরলেও আর যেতে পারছেনা। আবার একদম ভিজে গেলাম তাই ফিরে এলাম আর গামছা দিয়ে গা মুছে নিলাম।
মা- জিজ্ঞেস করল কি হয়েছিল।
আমি- বললাম নোঙ্গর উঠে গেছিলো বোট চলতে শুরু করেছিল, তুমুল ঝর আর বৃষ্টি হচ্ছে।
মা- আটকেছিস ভালো করে।
আমি- হ্যা আটকেছি। এবার গাছের সাথে আটকে দিয়েছি। আর যেতে পারবেনা।
মা- এত হাওয়া আসছে যে শীত করছে তাই কাঁথা পেচিয়ে নিয়েছি।
আমি- পাশে তাকাতে দেখি মা এবার ব্লাউজ ছায়া খুলে দিয়েছে আমি বাইরে গেছিলাম ফাকে। আমি আবার বসে পড়লাম আগের জায়গায় পা ঝুলিয়ে।
মা- একটু রাগ দেখিয়ে আবার তো ভিজলে কেন ওখানে বসেছ এস কাথার মধ্যে।
আমি- না তুমি তো সব খুলে ফেলেছ যাবো কি করে এখানেই ভালো আছি। এই বলে মায়ের ব্লাউজ আর ছায়া ধরে নিংড়ে নিয়ে মেলে দিলাম। পাশের দড়িতে।
মা- আর ন্যাকামো করতে হবেনা এস এদিকে ঠান্ডা লাগিয়ে নেবে তুমি।
আমি- না না কিছুই হবেনা আমার এই ভালো আছি আমি তুমি শুয়ে পরো। বাড়ি গিয়ে সোজা কোথাও চলে যাবো আর তোমাদের মুখ দেখাবো না আমি। রাত টা ঠাকুর ভালো ভাবে পার করে যেন বাড়ি নেয়। আমি চলে গেলে আর কোন সমস্যা থাকবেনা। যা পাপ করেছি তাতে আর বাড়ি থাকা হবেনা। নাকি আমাকে এই জঙ্গলে ফেলে যাবে বাঘের পেটে চলে যাবো, আর কোন সমস্যা ভয় কিছুই থাকবেনা।
মা- অনেক বড় হয়ে গেছ তাইনা, মা বাবা তোমার কেউ না, তাদের প্রতি কোন দায় নেই তোমার। এদিকে এস বলছি। কি হল এস বলছি। গামছা মেলে দিয়ে এস বলছি। আবার সব ভিজে গেছে মুছে এস বলছি।
আমি- চুপ করে বসে আছি জাচ্ছিনা মায়ের কাছে।
মা- কিরে কথা কানে যাচ্ছেনা কি বলছি আমি।
আমি- আর কোন কথার উত্তর দিচ্ছিনা চুপ করে বসে আছি। বাইরের দিকে তাকিয়ে। একটু পরে টের পেলাম মা আমার হাত ধরেছে।
মা- এদিকে চলে আয় যা হবে দেখা যাবে মরন থাকলে মা ছেলে দুজনে মিলেই মরব অত ভাবতে হবেনা বলে হাত ধরে একবারে তুলে নিয়ে চলে গেল। আমাকে পাশে বসিয়ে বলতে লাগল, দেখ যা হবার হয়ে গেছে অত ভেবে লাভ নেই অনেক বকেছি তোকে আর বকব না। তবে আমাকে একটা কথা দিতে হবে বোনের সাথে আর ওই কাজ করবি না।
আমি- নিজের চোখ মুছতে মুছেতে বললাম সে তো আমি তোমাকে আগেই বলেছি আর হবেনা। তারপরেও যা বললে কাছে আসি কি করে আমাকে এত খারাপ ভাব্লে তুমি, বোন আমাকে ওইভাবে না বললে কোনদিন আমি করতাম না।
মা- আমি জানি সেজন্যই তো বার বার জিজ্ঞেস করেছি, কি আমি জিজ্ঞেস করিনি, আমার মেয়ে কেমন আমি জানিনা, আমার ভালো মতন বোঝা হয়ে গেছে তোকেই ও উক্তত করেছে। মেসেজ গুলো আমি পড়েছি আজ্ঞা গোরা সব, কিন্তু নিজে তো বোনের কোন দোষ দিচ্ছিলে না। ছেলেকে মারতে কোন মায়ের ভালো লাগে।
আমি- মা আমাকে মাপ করে দিও, আর যা হোক আমি কারো সাথে কোনদিন জোর করে কিছু করিনি।
মা- আমি জানি আমাকে বলতে হবেনা, আমার মেয়েই আমার ছেলেকে দিয়ে করিয়েছে। তোকে খুব ভালবাসে তাইনা। এমনিতে রাগ দেখালেও জানি তো, ওর দাদার জন্য একটা আলাদা টান ছিল, যাক যা হবার হয়ে গেছে ও নিয়ে আর ভাবতে হবেনা।
আমি- মা আমাকে মাপ করে দিয়েছ তো।
মা- না এত সহজে মাপ হবেনা তোমার।
আমি- মা সত্যি বলছি আর কোন দিন কিছু হবেনা। মাপ করে দাও আমাকে। তোমার দুটো পায়ে পরি। তুমি যা বলবে আমি শুনবো মা আর একদম অবাধ্য হবনা তোমার।
মা- সত্যি তো আমার কথা শুনবে তো, এখন থেকে।
আমি- হ্যা মা সত্যি বলছি।