মা ও বোনের স্বামী - অধ্যায় ১৮২
এরপর বাবা মা দুজনেই এলেন আমরা বসে আছি দোকানদারী করছি। রাত ৮ টা নাগাদ কেয়া ফোন করল দাদা তাড়াতাড়ি বাবা মাকে নিয়ে চলে আয় আমার কি হবে দাদা তোরা তাড়াতাড়ি চলে আয়।
আমি- কি হয়েছে বলবি তো।
কেয়া- কি বলব তোরা তাড়াতাড়ি আয় আমার শাশুড়ি মা কেমন করছেন তরাতারাই আয়।
আমি- আচ্ছ বলে দোকান বন্ধ করে বাবা মাকে নিয়ে রওয়ানা দিলাম, ২০ মিনিটের মধ্যে পৌছে গেলাম। উপরে যেতে দেখি মাওইমা মাথায় হাত দিয়ে কাঁদছে। কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম মাওইমা কি হয়েছে।
মাওইমা- আমার সব শেষ বাবা সব শেষ হয়ে গেছে।
আমি- শান্ত হন কি হয়েছে বলুন।
মাওইমা- তাপস আর নেই জঙ্গিদের গুলি লেগেছে আমাকে অফিস থেকে ফোন করেছিল। অবস্থা খুব খারাপ।
আমি- আমাদের যেতে বলেছে কি
মাওইমা- মা জানাবে বলেছে। তুমি খোঁজ নাই এই নাম্বার। ]
আমি- বাইরে গিয়ে ফোন করলাম কেউ ধরছিলনা, কিছুখন পরে ব্যাক এল। আমি জিজ্ঞেস করতে ওরা বলল কোমায় আছে কালকে বলা যাবে। অপেক্ষা করুন বির জওয়ান দুই জঙ্গি খতম করেছে। আমি সবাইকে বুঝি শান্ত করে ওবারিতেই থেকে গেলাম। কোন খবর আর পাচ্ছিনা। সকালে বার বার ফোন করলেও কেউ ধরছে না। বেলা ১১ টা নাগাদ ফোন এল আমরা আসছি। কিছু ক্ষণের মধ্যে তাপসের নিথর দেহ নিয়ে ওরা বাড়িতে হাজির। কান্নার রোল কাউকেই থামানো যাচ্ছেনা। ওদের রীতি অনুযায়ী তাপসের সৎকার করা হল। আমার মাওইমা নিস্তব্দ হয়ে গেছে, কেয়া কোন কথা বলছেনা। আমি মা বাবা সব সামাল দিলাম। কেয়াও নিথর হয়ে গেছে। যা হোক আস্তে আস্তে কিছুটা স্বাভাবিক হলেও মাওইমাকে আর কথা বলানো গেল না। দেখতে দেখতে ৪ দিনে তাপসের কাজ করা হল, নামে মাত্র। কেয়ার নামে সব কাগজ পত্র করা হল। এইসব করতে করতে ১৫ দিন গেল কিন্তু কেয়া এর মধ্যে পরীক্ষা দিল।
কিন্তু মাওইমাকে আর কথা বলানো গেল না। আমাদের এই টানাপড়েনের মধ্যে বাবার দিকে তেমন খেয়াল দেওয়া হয়নি। বাবাও কেমন নরম হয়ে পড়ল।
বাবা- একদিন বলল আমি জর করে মেয়ের বিয়ে দিতে না বললে এমন হত আমার মেয়েটা অল্প বয়েসে বিধবা হল। বলে বাবা চোখের জল ফেলতে লাগল।
মা- বাবাকে বোঝাচ্ছে কিন্তু বাবাও কেমন যেন ভেঙ্গে পড়ল। দিন দিন দুর্বল হচ্ছে আমার কি খারাপ দিন এল সব ভুলে গেলাম। এভাবে ১ মাস গেল ।
কেয়া আর ওর শাশুড়ি থাকে আমি মা প্রায়ই যাই কিন্তু আমি সেই যৌনতা ভুলে গেছি এক মাসে একবারও কিছু হয়নি কি মা কি বোন কারো সাথে, কারন এদিকে বাবাও অসুস্থ। খুব খারাপ অবস্থায় চলছে।
কেয়া- একদিন বলল দাদা আমারদের একি হল এভাবে সব শেষ হয়ে যাবে। দেখ শাশুড়ি কথাও বলছে এই কদিনে ওনার শরীর কেমন খারাপ হয়ে গেছে।
আমি- হ্যারে খুব খারাপ দিন যাচ্ছে কি হবে কে জানে। আমি অপেক্ষা কর সব ঠিক হয়ে যাবে। রাতে মাকে নিয়ে বাড়ি আসলাম। কেয়া আবার ফোন করল দাদা মা কেমন করছে তাড়াতাড়ি গাড়ি নিয়ে আয়।
আমি- গেলাম, মাওইমা ও মাওইমা।
মাওইমা- বাবা আমার দিন শেষ ছেলে আমাকে ডাকছে আর বাঁচব না। আমাকে ওর কাছে যেতে হবে।
আমি- কি বলছেন আপনি চুপ করুন আমরা আপনি না থাকলে বাঁচব কি করে।
মাওইমা- তুমি এক কাজ কর, কেয়াকে নিয়ে অন্য কোথাও গিয়ে সংসার কর আমাদের সব থাকল তোমাদের জন্য, আমার সব কেয়াকে উয়িল করে দিয়ে গেলাম। ্তুমি আমার ছেলে আর কেয়া আমার বৌমা আমার কথা রেখ বলে আমার আর কেয়ার হাত এক করে দিয়ে গেল। আর বলল শোন কেয়া মা হতে চলছে, ওর পিরিয়ড বন্ধ হয়ে গেছে, আমি জানি কেয়ার বাচ্চার বাবা তুমি, ওকে জন্ম দেবে, এই দাবী আমার।
আমি- ওনার অবস্থা দেখে সাথে সাথে গেলাম গাড়ি এনে ওণাকে হাঁসপাতালে ভর্তি করালাম। ৫ দিনের মাথায় আমার প্রিও মাওইমা চলে গেলেন। ৪৫ দিনের মধ্যে ছেলে ও মা মারা গেলেন। যা হোক সৎকার করে আমিই কাজ করলাম ওনার বাপের বাড়ির কেউ আসেনি। ও বাড়ি তালাবন্দি করে কেয়াকে আমাদের বাড়ি নিয়ে এলাম।
বাবা খুব অসুস্থ বাবাকেও হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে মনে হয়।
মা- ভেঙ্গে পড়ল কিছু কর তোর বাবা কেমন করছে।
আমি- মা আজকের রাত দেখ কালকে বাবাকে না হয় হাঁসপাতালে ভর্তি করব।
বাবা- আমার আর মায়ের হাত ধরে বলল শোন আমি আর নেই আমারো ডাক এসেগেছে চলে যেতে হবে। তোমরা কেয়াকে কাছে রেখ ওকে একা রেখ না। আর যদি পার তোমার মতন কেয়াকেও সুযোগ দিও। আমার এই দাবী, আমার বিধবা মেয়ে কোথায় যাবে। তরুন তুই দেখিস তোর মাকে আর বোনকে।
আমি- বাবা অমন কেন বলছ, আমি কি খেয়াল রাখবো না।
বাবা- মাকে যেমন দেখছিস তেমন দেখবি তো।
মা- কেন ওকে না হয় আবার বিয়ে দেব।
বাবা- না ওকেও তরুন রাখবে। তোমাকে যেমন রাখছে।
মা- কি বলছ কেয়া রাজি হবে নাকি।
বাবা- কেয়া রাজি হলে তোমার আপত্তি নেই তো।
মা- না কেন আপত্তি থাকবে আমার মেয়েনা ওর জন্য এটুকু পারবোনা। আমি ওর মা তুমি ভুলে গেছ।
বাবা- আমার সময় নেই পরপারে চলে যাবো। কেয়াকে ডাক।
মা- কেন
বাবা- আমি ওকে বলে যাবো।
মা- ও জানে কিছু এব্যাপারে।
বাবা- সব জানে আমিও জানি আমার ওর সাথে কথা হয়েছে তোমরা যখন হাসপালে ছিলে সব আমাকে বলেছে। কেয়া মা হতে চলছে। আমি আর কেয়া দুদিন খেলেছি। সেটা তোমাদের মরার আগে বলে গেলাম। ডাক কেয়াকে।
মা- কেয়া এদিকে আয় তোর বাবার অবস্থা ভালনা তাড়াতাড়ি আয়।
কেয়া- আসল আর বলল বাবা কি হয়েছে তোমার।
বাবা- মা আর সময় নেই আমি চলে যাবো ওপারের ডাক এসেগেছে। আমার একটা শেষ কথা রাখবি সবাই।
কেয়া- বল।
মা- বল তুমি বল।
আমি- হ্যা বাবা বল।
বাবা- তরুন এখন থেকে তুমি হবে মা বোনের স্বামী। চাকরি না পাওয়া পর্যন্ত যেমন আছে তেমন থাকবে আর পেলে দূরে গিয়ে মা ও বোনকে বিয়ে করে প্রকৃত স্বামী হবে আমাকে কথা দাও বলে হাত বাড়াল।
আমরা সবাই বাবার হাত ধরে কথা দিলাম তাই হবে। বাবা কিছু স্ময়ের মধ্যে কথা বন্ধ করে দিল একটু পরে এক দৃষ্টে তাকিয়ে থাকল। আমি হাত ধরতে দেখি বাবা আর নেই।
বাবার কাজ শেষ করে ফিরি হয়ে মা আর বোনকে একসাথে নিয়ে থাকতে লাগলাম। একদিন হটাত মেসেজ পেলাম আমার চাকরি হয়েছে উত্তর বঙ্গে। ১৫ দিনের মধ্যে জয়েন করতে হবে। আমি আর অপেক্ষা করলাম না সোজা জয়েন করে চলে গেলাম একা বাড়ি ঠিক করে মা আর বোনকে নিয়ে যাওয়ার আগে এক মন্দিরে গিয়ে বিয়ে করে নিলাম। তারপর গিয়ে আমার নতুন বাড়িতে উঠলাম। এবং স্বামী স্ত্রীর মতন থাকলাম কেয়াকে পরিচয় দিলাম আমার বউ, আর মাকে মা হিসেবে কিন্তু রাতে এক বিছানায় থাকতে লাগলাম। ১০ মাসের মাথায় কেয়ার একটা ছেলে হল। কিন্তু দুরভাগ্য মাকে আর মা বানাতে পাড়লাম না। কিন্তু রাতের বউ হয়ে থাকল।
সমাপ্ত