নতুন জীবন - অধ্যায় ৫
আম্মু যে শুধু তার রুপ যৌবন ডাকার জন্য পর্দা করে তা কিন্ত নয়। এটা ধর্মীয় অনুশাসন। আম্মু ধর্মীয় সব বিষয়ে খুব সচেতন। ছোট বড় সবকিছু কে খুব গুরুত্ব দিয়ে থাকে, এটা মাদ্রাসায় পড়ুয়া আমার আম্মুর একটা আলাদা গুন। অন্যান্য মাদ্রাসায় পড়া মেয়েদের মধ্যে সাধারনত যা তেমন দেখা যায় না।
এত গুনে গুনাম্বতী মায়ের পেটে জন্ম গ্রহন করার কারনে আমার নিজেকে অনেক ভাগ্যবান মনে হচ্ছিল।
ভাগ্য আমার আরও কতটা সুপ্রসন্ন ছিলো সেটা আর ও কিছু দিন পর টের পেলাম ।
সেদিন ছিল শুক্রবার। সব কিছু স্বাভাবিক হয়ে গেয়েছিল .
আম্মুকে আর আগের মত বাবার জন্য কাঁদতে দেখি না। বাবা মারা যাওয়ার মাস ছয়েক পরও যেভাবে বাবারকথা মনে করে কাঁদছে.
আসলে আমাদের যতই প্রিয় কাছের আপনজন মারা যায় না কেন একটা সময়ের পর আর তাকে মনে থাকেনা। ধীরে ধীরে তার মায়া কেটে যায়। আম্মুর ও ততদিনে সে মায়া কেটে গেছে . বাবার কথা স্বরন করে আর দুঃখ পায় না।
অনেক হাসি খুশি থাকে। মায়ের এই হাসি মুখ দেখে খুশিতে ভরে যায় আমার মন। আমি তো চেয়েছিলাম ভালো থাকুক ' মা'
মাকে আমি ভীষন ভালোবাসি। আম্মু পৃথিবীর সবচেয়ে ভালো আম্মুদের একজন। আমার দেখা পৃথিবীর ভালো মানুষটি আমার আম্মু। নিজের সীমাবদ্ধতার মাঝে ও কত মানুষের উপকারের চেষ্টা করেন। কত মানুষ তার ধারা উপকৃত হয়েছে।
আমি ভোরে ঘুম থেকে উঠার পর ঘুমাতে গেলেও, আম্মু ভোর বেলা ঘুম থেকে উঠার পর আর ঘুমাতে যায় না টুকটাক ধর্মীয় কাজ করার পর গৃহস্থালি কাজ করে নয়টা দিকে রান্নাবান্না করে।