নতুন জীবন - অধ্যায় ৬
সেদিন শুক্রবার ছিলো বিধায় আমার কলেজ যাওয়ার তারা ছিলো না। তাই ভোরে ঘুম থেকে উঠে আমার ঘুমিয়ে পড়লাম। এই ঘুমিয়ে পড়ার জন্য যদিও আম্মু আমাকে অনেক বকা দেয় কিন্তু কখনো আমার উপর রাগ করে না। শুধু বুঝায় সকালের হাওয়া বাতাস শরীরে জন্য অনেক উপকারী আর তুই এসময়টায় ঘুমিয়ে থাকিস হাধারাম।
রাতের ঘুম পুরো করে সকাল বেলায় হালকা ঘুম নিয়ে বিছানায় শুয়ে আছি। সকালে আমার এত হালকা ঘুম হতো যে বুঝতেই পারতাম না ,আসলে আমি ঘুমালাম কিনা।
শুয়ে আছি সকাল আটটা বাজে
হঠাৎ আম্মুর গলার আওয়াজ পেলাম..
মা: এত বেলা করে কি কেউ ঘুমায় ? ছেলেটাকে কত দিন বললাম ভোরে উঠার পর আর না ঘুমাতে সকালের হাওয়া বাতাস একটু গায়ে লাগা. আমার কথা কানেই দেয় না.
কিছুটা চেঁচামিচি করে কথা গুলো বলতে লাগল।
আম্মুর গলার শব্দ শুনেও হালকা চোখ বুঝে শুয়ে রইলাম।
তখনি আম্মু আমার রুমে এসে আস্তে করে ডাক দিলো.
আরাফাত, উঠো বাবা. অনেক বেলায় হয়েছে।
- প্লিজ আরেকটু ঘুমাতে দাও
- আটটা বাজে তো আর কত ঘুমাবি? মাছ ওয়ালা আসার সময় হয়ে গেছে তো.
মাছ ওয়ালার কথা বলতেই তাড়াতাড়ি উঠে পড়লাম । আজ তো মাছ ওয়ালা আসবে। অন্যান্য দিন মাছ ওয়ালা দেরী করে আসলেও শুক্রবার আটটার মধ্যে এসে যায়। আগে সব্জি মাছ কেনার জন্য বাজারে যেতে হতো এখন আর যেতে হয় না। কারন কয়েক বছর ধরে কিছু শ্রমজীবী মানুষ ভ্যানে করে গ্রামের রাস্তায় ঘুরে ঘুরে সব্জি আর মাছ বিক্রি করে বেড়ায়। অধিকাংশ মানুষ এদের থেকে বাজার করে। সবকিছু টাটকা পাওয়া যায় বলে। তাই আমরাও করি।
আর এদের থেকে সদাই কিনতে আমাকেই যেতে হয়। আম্মু যেতে চায় না ।এরা বেগানা পুরুষ বলে, এদের নজর ও ভালো নয় কেমন ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে মহিলা দেখলে আর অশ্লীল অংগি ভংগি করে।
একদিন আমি বাড়ি ছিলাম না। ঘরে ও রান্না করার মত মাছ ছিলোনা। তাই আম্মু বাধ্য হয়ে ওড়ানা দিয়ে মুখ ডেকে মাছ কিনতে গিয়েছিল। কাছে যেতেই মাছ ওয়ালা আম্মুকে দেখে টাস্কি খেয়ে গেছে। চোখ দুটো বড় বড় করে তাকিয়ে ছিল খানিক সময়।
আম্মু ভ্যানে থাকা কাতল মাছের দর জিজ্ঞেস করতেই নাকি . মাছ বিক্রিতা ভ্যানে থাকা মাঝারি সাইজের একটা শৌল মাছ হাতে নিয়ে নেড়ে নেড়ে আম্মুকে দেখাচ্ছিল.
ভাবী. এটা নেন অনেক ভালো হবে
আর বারবার আম্মুর ফর্সা হাত আর পায়ের পাতার দিকে আড় চোখে দেখছিল.
খালি পায়ে ছিল বলে আম্মুর ফর্সা পায়ের পাতা দেখা যাচ্ছিল। আম্মু যতই কাতল মাছের কথা বলছিল কিন্তু মাছ বিক্রিতা ততই উৎসাহিত হয়ে বারে বার শৌল মাছ দেখাতে লাগল।