সুমনার জীবনের অতল আঁধার - অধ্যায় ১১

🔗 Original Chapter Link: https://xossipy.com/thread-72804-post-6161491.html#pid6161491

🕰️ Posted on Fri Mar 13 2026 by ✍️ Toxic boy (Profile)

🏷️ Tags:
📖 408 words / 2 min read

Parent
টেবিলে ডালের বাটি থেকে তখনও ধোঁয়া উঠছে, কিন্তু সেই ধোঁয়ার রেখা যেন বিষাক্ত কুয়াশার মতো ঘরটাকে ঘিরে ধরছে। অয়নের কথায় অমিয়বাবু থমকে গেলেন। তিনি চামচটা নামিয়ে রেখে অয়নের দিকে তাকালেন, কপালে ভাঁজ—"কিসের গন্ধ অয়ন? ঘরের ভেতর নর্দমার গন্ধ কেন হবে?" সুমনার মেরুদণ্ড বেয়ে তখন বরফের মতো একটা স্রোত নেমে গেছে। সে জানত না অয়ন এই মুহূর্তে ঠিক কী বলে বসবে। তার জিভ শুকিয়ে কাঠ, ঠোঁটে এক অসহায় হাসি ফুটিয়ে সে যেন এক মৃত্যুকূপের কিনারে দাঁড়িয়ে আছে। অমিয়বাবু যখন অয়নের উত্তরের অপেক্ষায় তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে চেয়ে আছেন, তখন সুমনা প্রবল আতঙ্ক চেপে ধরে অয়নের কাঁধে হাত রাখল। অয়ন যখন কিছু বলার আগেই সুমনা নিজেকে প্রায় ছিটকে নিয়ে এল। তার গলার স্বর কাঁপা কাঁপা, কিন্তু তাতে এক মরিয়া মিথ্যের তেজ। "আরে, ও তো অকারণেই এসব বলছে..." সুমনা এক চিলতে হাসি ফুটিয়ে অমিয়বাবুর দিকে তাকালো। তার গলার স্বর কিছুটা তীক্ষ্ণ। "আসলে দুপুরে শোনোনি? আকরাম চাচা বলছিল ওর ঘরে একটা কি যেন মরে পচে ছিল, সেই ইঁদুর কি কি একটা যেন! সেই থেকেই ওই একটা ভ্যাপসা গন্ধ বেরোচ্ছিল। চাচা আজ বিকেলবেলা ওটাকে খুঁজে বের করে পরিষ্কার করে বাইরে ফেলে দিয়েছে। অয়ন বোধহয় সেই গন্ধটাই এখনো নাকে পাচ্ছে... তাই না অয়ন বাবা?" সুমনা অয়নের দিকে এমনভাবে তাকাল—এক করুণ আবেদন, যা অয়নকে নিরুত্তর করে দিল। সুমনার হাতটা তার কাঁধের ওপর তখন চাপের চোটে নীল হয়ে যাচ্ছে। অয়ন বাবার দিকে তাকাল। অমিয়বাবুর মুখের ভয়ের ছায়াটা নিমেষেই কাটল, তিনি একটা দীর্ঘ স্বস্তি ফেলে অট্টহাসি হেসে উঠলেন। "ওহ, এই ব্যাপার! আরে আমি তো ভাবলাম অন্য কিছু। ইঁদুরের গন্ধ তো হবেই, কতদিন ধরে কোণায় পড়ে পচছিল কে জানে!" অমিয়বাবু চামচ তুলে নিলেন। "আকরাম চাচা তো আবার খুব পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, ফেলে দিয়েছে যখন, তখন গন্ধ আর থাকবে না। চল অয়ন, এবার ঝটপট খাবারটা শেষ কর তো সোনা, অনেক রাত হয়েছে।" অমিয়বাবু আবার খাবারে মন দিলেন। কিন্তু ডাইনিং টেবিলের তলায় সুমনার পা দুটো তখনো থরথর করে কাঁপছে। সে জানে, সে কেবল একটা ইঁদুরের মিথ্যে দিয়ে অয়ন আর নিজেকে রক্ষা করার চেষ্টা করছে, কিন্তু ওই গন্ধটা কি কেবল ইঁদুরের? ওই কটু গন্ধটা কি কেবল সেই মৃত পশুর? ওই গন্ধ তো তাদের সংসারের পচনের প্রমাণ। অয়ন কোনো কথা না বলে মাথা নিচু করে খেলো। সে বুঝতে পারছে, বাবা যা বিশ্বাস করছে, সেটা সম্পূর্ণ ভুল। কিন্তু আকরাম চাচার সেই পৈশাচিক শাসানি আর মায়ের এই অসহায় চোখের জল তাকে সত্য বলতে বাধা দিচ্ছে। নিচতলার অন্ধকার ঘর থেকে আকরাম চাচা হয়তো জানালার ফাঁক দিয়ে ওপরের আলোটা দেখছে। সে জানে, ওপরতলায় তার এই মিথ্যের দুর্গ খুব যত্ন সহকারে সুমনা নিজেই তৈরি করছে। সে তৃপ্ত। তার কোনো নড়াচড়ার প্রয়োজন নেই, তার অস্তিত্বই এখন বাড়ির প্রতিটি দেওয়ালের সাথে মিশে গেছে।
Parent