গোধূলি আলো'র গল্পগুচ্ছ - অধ্যায় ১১১
আকলিমা হাতে তুড়ি মেরে বললো, ঠিকই বলছি। তোরও ঠিক এটাই করা উচিত।
সেলিনা হাত নেড়ে বললো, নারে ভাই, আমাকে দিয়ে হবে না।
আকলিমা বললো, তোকে দিয়েও হবে। আমি আজই তোকে কিছু টিপস্ দিয়ে যাচ্ছি।
সেলিনা আবারও হাত নেড়ে বললো, আমি পারবো নারে। তাছাড়া বৌমা ঘরে আছে। ও না থাকলেও একটা কথা ছিল।
আকলিমা কিছু সময় ভেবে বললো, ঠিক আছে। তাহলে অন্য ব্যবস্থা করছি। তুই আজ চল্ আমার সাথে আমার বাসাতে।
সেলিনা অবাক হয়ে বললো, সেকি! তোর বাসায় গিয়ে কী হবে?
আকলিমা বললো, আগে চল্ তো। তারপর দেখবি।
রাত দশটার পর আকলিমা ফোন করলো আবিরের কাছে। কাঁদো কাঁদো কন্ঠে বললো, বাবা, তোমার মাকে তো আজ জোর করে নিয়ে এলাম আমার এখানে। কিন্তু হঠাৎ করেই সে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে। হসপিটালে নিতে হবে। আমার ছেলেটাও অসুস্থ। বিছানায় শোয়া। তাই তুমি যদি একটু এসে নিয়ে যেতে। আর কোনো উপায় দেখছি না। আমি একলা মেয়ে মানুষ, কীভাবে কী করবো?
সব শুনে আবির বললো, ঠিক আছে। আসছি আমি এক্ষুনি।
আবির পৌঁছানোর পর আকলিমা বললো, তুমি পৌঁছানোর একটু আগেই জ্ঞান ফিরেছে। দিব্যি কথাবার্তাও বলছে। হসপিটালে নেবার আর প্রয়োজন নেই।
আবির হাঁফ ছেড়ে বললো, চলুন তাহলে মাকে দেখে আসি। তারপর দশ মিনিটের ভেতরেই ফিরবো বাসায়।
মায়ের সাথে টুকটাক কথা সেরে আবির যখন উঠতে চাইলো তখন আকলিমা আন্তরিকতার সাথে বললো, এতো রাতে আবার ফিরবে কেনো? আজ রাতটা এখানেই কাটিয়ে যাও না।
আবির বললো, সেটা সম্ভব নয়। চৈতি বাসায় একা।
সেলিনা বললো, তাতে কী? তুই চৈতিকে ফোন করে বল্ পাশের বাসার মিলিকে ডেকে এনে আজকের রাতটা কাটিয়ে দিতে।
আবির কিছু সময় চিন্তা করে বললো, ঠিক আছে।
রাতের খাবার সেরে আবির বললো, ঘুমাবো কোথায়?
আকলিমা বললো, আমার ছেলেটা অসুস্থ। রাতে ওর সাথেই থাকতে হবে আমাকে তাই তোমরা মায়ে-পোয়ে একসাথে ঘুমাবে।
মায়ের সাথে ঘুমাবার অভ্যেস একেবারেই নেই আবিরের। তাই কিছু সময় চুপ থেকে বললো, ঠিক আছে।